এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০১৯

এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০১৯
স্থান – জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি

এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব – ২০১৯ , তিন দিনের এই সাহিত্যধারার অনুষ্ঠানে ব্লগার হিসাবে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত। সাহিত্যের এই অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার গল্প, কবিতা, সিনেমা, উপন্যাস ও নাটক সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব অধিবেশনের সাক্ষী হাজারো সাহিত্যপ্রেমী। পঞ্চম বছরে পদার্পনকারী এই অনুষ্ঠানের চমক ছিল আরও বেশি উন্নততর।

absu5th.JPG

প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শঙ্খ ঘোষ মহাশয়, বাংলাদেশের অতিথিদের মেলবন্ধনে এই মঞ্চের অধিবেশন হয়ে উঠেছিল আলোকময় ও সুসজ্জিত সর্বোপরি এই স্থানটি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, যেখানে হাজারো গুণী ব্যাক্তির সমাগম ছিল একসময়ে, বাংলাসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই স্থান আলোকিত করেছেন, সেই স্থানের থেকে উন্নততর কোনো জায়গাই হতে পারে না এই বাংলাসাহিত্য উৎসবের।
“এই উৎসব কলকাতার বা পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের উৎসব না।এই উৎসব বাংলা সাহিত্যের উৎসব।”-মাজহারুল ইসলাম।
সত্যিই ইতিহাস হোক কিংবা কমেডি, এই ভিন্ন ভিন্ন আলোচনায় উপস্হিত উৎসব অথিতিরা ব্যাক্ষা করেছেন, দেবতোষ দাশের কথায় ঐতিহাসিক সাহিত্য ও লিখতে গেলে ইতিহাসটা জানা দরকার, তেমনি সাহিত্যের মাধুর্য্য পেতে গেলেও সাহিত্যের গভীরতম প্রেক্ষাপটে পৌঁছানো দরকার।

বাংলা সাহিত্যে মজার আনন্দ কিংবা হাসির মাধুর্য্য সিনেমাসাপেক্ষ তা আজকের সমাজে অনেকটাই আলোচনার।
absu1absu2

দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে আরও ব্যাপ্তিময় এই সাহিত্যানুষ্ঠান, খাদ্যের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে আজ অনেকের ধারনাই ভুলতে বসেছে, খাদ্য ও সাহিত্য পরিপূরক একে অপরের, তাই আজ আবার করে খাদ্য সাহিত্যের তৃপ্তি মেটাতে ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ীর কথায় -গল্পবলার চল আবার হওয়া দরকার, যতটা আকর্ষক গল্প বলা যাবে, ততটাই পাঠকের কাছে সেই সাহিত্যের ব্যাপ্তি অনেকটা বেড়ে যাবে। এরপর মনরঞ্জন ব্যাপারী দলিত সাহিত্য লেখনীর মধ্যে পরিস্ফুট, তার অসামান্য অধিবেশনে সকলেই অনুপ্রেরিত হয়েছে।
“আমার সব প্রেরণার মূল কারণ ক্ষুধা। আমার সৌভাগ্য আমি আমার জীবনের দুর্বলতাগুলোকে শক্তিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি।”- মনরঞ্জন ব্যাপারী
এই সাহিত্যের শহরে ছোট হোক বা বড় সবক্ষেত্রেই সাহিত্য সময়ের আয়না। বাক্তিমানুষের ওঠাপরা নিয়েই সাহিত্যচর্চা শুরু।তাই সময় হোক বা সাহিত্যকীর্তি, হয়ত ভাষাগত মতভেদ থাকতে পারে, তবে সাহিত্যে সময়েরপ্রতিফলনে কিছু বিস্তৃতি থাকা সত্ত্বেও সাহিত্য কিন্তু সময়ের পরিপূরক নয়।
শ্রীজাতর কথায় -“সাহিত্য সমাজের আয়না।” তেমন আবার নির্বেদ রায়ের কথায় “যিনি সাহিত্যিক তিনিই নতুন সময়ের Creator”।

এরপর গোয়েন্দা কি সত্যি না কল্পনা, এই আলোচনাসাপেক্ষ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন IPS চম্পক ভট্টাচার্য ও বীথি চট্টোপাধ্যায়।এছাড়া কয়েকদিন আগে আমরা সাহিত্য জগতের এক অসামান্য নক্ষত্র ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছি, নবনীতা দেবসেনকে। তিনি যে মহামূল্যবান সাহিত্যকীর্তি রেখে গেছেন আমাদের জগতে, তা সত্যিই তুলনার নয়, তাই বাংলা সাহিত্য উৎসবে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন না করলে যথাযোগ্য মর্যাদাটুকু দেয়া হয়না।
absu4.jpg
এরপর তৃতীয় দিনের সূচনাপর্বে শব্দবাজির খেলা ও পরমা দাশগুপ্তের সংগীতানুষ্ঠান জোড়াসাঁকোর প্রাঙ্গন প্রজ্জ্বলিত করেছিল। বিশেষ সাহিত্যপ্রেমী সম্মাননার ও ফেসবুকের ভাষা সাহিত্যের মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
“পাঠকই ভাষাকে জ্যান্ত  রাখে, পাঠকই আমাদের জ্যান্ত রাখে।” -রাজা ভট্টাচার্য।
absu3.jpg
তাই ভাষার মাধুর্য্য নিয়ে পরবর্তী অধিবেশনে বিশেষ সম্মান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়েছে ২০০ বছরের উজ্জ্বলতর দুই সাহিত্য পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দত্ত মহাশয়কে। এরপর নাটক ও সাহিত্যের মেলবন্ধনে কতটা শিল্প সমৃদ্ধি পাচ্ছে সেই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নাটকজগতের নক্ষত্রবর্গ সোহিনী সেনগুপ্ত, সোহাগ সেন ও চন্দন সেন প্রমুখ।
“বই পড়লে নিজের ভিতরে একটা ইউনিভার্স তৈরি হয়, তখন খুব বেশি কথা বলারও প্রয়োজন হয়না, আর সবার মাঝে কে পাত্তা দিল তাও দেখতে হয়না। তখন অনেক বেশি আনন্দে থাকা যায়।”- সোহিনী সেনগুপ্ত
সত্যিই  সাহিত্যের আলাদা একটা পরিধি আছে, নিজের মধ্যেই সেটা পরিপূর্ণতা পায়। আর নাটক ও সাহিত্যের পরিপুরকতা কতটা সন্দেহজনক সেটার মতবিরোধ আজীবনকালের। তবে অত্যাধুনিক নাটকীয় সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভূতচর্চার রহস্য ও সমরেশ মজুমদারের সিনেমা ও সাহিত্যের সম্পর্কে সাবলীল ভাষণ সত্যিই আলাদামাত্রার রূপ এনে দিয়েছে এই এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের।আসছে বছর আবার হবে এই আশায় ও পরিপূর্ণতায় স্বাগত সেনগুপ্ত ও ত্রিদিববাবু পঞ্চমবর্ষের সমাপ্তি পর্ব ঘোষণা করলেন।
absu5.jpg

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s